পেকুয়ায় ডাম্পার-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৩, আহত ৩

0
136

পেকুয়ায় ডাম্পার-সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছে। আহতদের প্রথমে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়।
আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে আঞ্চলিক মহাসড়কের পেকুয়া সদর ইউপির নন্দীরপাড়া স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের মগঘোনা গ্রামের মৃত খলিলুর রহমানের ছেলে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আবু তালেব (৩৮), কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া এলাকার মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে আমিনুর কবির (৩৯) ও তার ভগ্নিপতি আক্কাস উদ্দিন (৪০)। তিনি একই এলাকার ছৈয়দ আলমের ছেলে। আহতদের মধ্যে নিহত আক্কাস উদ্দিনের মেয়ে সোনিয়া আক্তারের (১৬) অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
অপর আহতরা হলেন একই উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের গোলজার পাড়া এলাকার আব্দুল হান্নানের ছেলে দিদারুল ইসলাম (২৮)। আহত অপরজনের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায়নি।
পেকুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ সময় ডাম্পার ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে। তবে ডাম্পারচালক ফোরকান সটকে পড়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পেকুয়ার মগনামা জেটিঘাট থেকে ৫ জন যাত্রী নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি চকরিয়া যাচ্ছিল। আঞ্চলিক মহাসড়কের নন্দীর পাড়া স্টেশনে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা বালিভর্তি একটি ডাম্পার সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এ সময় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ফলে চালকসহ ৫ জন গুরুতর আহত হন এবং অপর যাত্রী আমিনুর কবির ঘটনাস্থলে মারা যান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে বাঁশখালীর জলদি এলাকায় মারা যান সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবু তালেব।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, “সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশ পাঠিয়েছি। দুর্ঘটনাকবলিত ২টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। এ সড়ক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩ জন নিহত ও ৩ জন আহত হয়েছেন।”

উল্লেখ্য, ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত বাবার চল্লিশা ফাতেহা দিয়ে অশ্রুসজল নয়নে তারা ফিরছিলেন নিজ নিজ কর্মস্থলে কিন্তু অদৃষ্টের নির্মম পরিহাসে কর্মস্থলে ফেরা হলো না কাস্টমস কর্মচারী কুতুবদিয়ার আমিনুল কবিরসহ একই পরিবারের ৩ জনের। ঘাতক ডাম্পার কেড়ে নিল ৩ জনের প্রাণ। ফলে গত ৩২ দিনে যে পরিবারের স্বজনহারানো বেদনা আর কান্না থামেনি, আজ আবার শুরু হলো আরো স্বজন হারানোর বুকফাটা আর্তনাদ।
কুতুবদিয়া থেকে নিহত আমিনুল কবিরের পরিবারের বরাত দিয়ে তার বন্ধু এডভোকেট এহ এম সাইফুল্লাহ খালেদ জানান, নিহত আমিনুল কবির ভয়েস অভ কুতুবদিয়ার সম্পাদক ও সমাজ কল্যাণ পরিষদ (সকপ) চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি চট্টগ্রাম কাস্টমসে সিপাহী পদে কর্মরত ছিলেন।
বাবার চল্লিশা ফাতেহা সম্পন্ন করে আজ ভগ্নিপতি আক্কাস উদ্দিন ও তার মেয়ে ভাগিনি কুতুবদিয়া সরকারি কলেজের একাদশ প্রথম বর্ষে পড়ুয়া আফসানা আলম সোনিয়া(১৯)কে সাথে নিয়ে যার যার কর্মস্থলে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
মারাত্মক আহত আফসানা আলম সোনিয়াসহ আহত অপর অজ্ঞাত তিনজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  সুুত্র :  দৈনিক আজদি