গাভীর যমজ বাছুর জন্মদান প্রযুক্তিতে সফলতার দাবি বাংলাদেশি বিজ্ঞানীর

0
81

বছরে একসাথে দুটি বাচ্চা প্রসবে সক্ষম হবে গাভী। এমন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সফলতা দাবি করেছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা।

প্রতিষ্ঠানটির ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গৌতম কুমার দেব  বলছেন, “বাংলাদেশে এ প্রযুক্তিটি নতুন। প্রাথমিক সাফল্যের পর আমরা এটি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি। সফল হলে এটি নিঃসন্দেহে দেশের গরু সম্পদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে”।

মূলত জোড়া বাছুর চিন্তাটির গবেষণাগারে সফলতা আসতে থাকে কয়েক বছর আগে থেকেই। গত প্রায় চার বছর ধরে পরীক্ষার আওতায় ধারাবাহিকভাবে একটি গাভী থেকে জোড়া বাছুর জন্ম নেয়ার পর এখন এটি মাঠ পর্যায়ে নেয়া সম্ভব বলে মনে করছেন গবেষকরা।

ড: গৌতম কুমার দেব বলছেন প্রযুক্তিটির নাম ইনভিট্রো অ্যামব্রায়ো প্রডাকশন বা আইভিপি। তবে এটিকে কেউ কেউ আইভিএ-ও বলে থাকেন।

এতে বেশি দুধ দেয় এমন গাভী থেকে ডিম্বাণু সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে নেয়া হয়। সেখানে ডিম্বাণুকে পরিপক্ব করে ফার্টিলাইজ করানো হয়। এর ফলে যে ভ্রূণের জন্ম হয় গবেষণাগারে সেখান থেকে দুটি করে ভ্রূণ ধাত্রী গাভীতে সংস্থাপন করা হয়। এরপর ওই গাভীটি গর্ভধারণ করলেই দুটি করে বাচ্চা বাড়তে থাকবে।

তিনি বলছেন, গবেষণার অংশ হিসেবে তাদের পরীক্ষাগুলোতে সফলতা এসেছে। তাই তারা এখন মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

“প্রাথমিকভাবে সফল হওয়ায় আমরা এখন ভালো মানের এনিমেল বাছাই করছি এবং এসব লাইভ এনিমেল থেকে ডিম্বাণু কালেকশনের কাজ করা হবে। আমরা আশা করছি মাঠ পর্যায়ে এটি সফল হবে এবং পরে তা আমরা ছড়িয়ে দিতে পারবো,” বলছিলেন মি. দেব।

তিনি বলছেন, একটি সুস্থ ও ভালো মানের গাভীর ডিম্বাণু দিয়ে অনেকগুলো গাভীর গর্ভধারণ করানো সম্ভব হবে।

সরকারি একটি পোর্টালে ঝিনাইদহের পশু চিকিৎসক মোঃ নূর আলী লিখেছেন, সাধারণত ষাঁড়ের বীজ সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট কয়েকটি পদ্ধতির মাধ্যমে গাভীর প্রজনন অঙ্গে স্থাপন করাকে কৃত্রিম প্রজনন বলে।

তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী একটি ষাঁড়ের বীজ থেকে প্রতি বছর ৬০ থেকে ৮০টি গাভীর প্রজনন করানো সম্ভব। কিন্তু কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ গাভী প্রজনন করানো যায়। স্বাভাবিকভাবে একটি ষাঁড় সর্বমোট ৭০০ থেকে ৯০০টি বাছুর প্রসবে ভূমিকা রাখতে পারে।

ফলে এখন যদি গবেষকরা একটির বদলে দুটি বাছুর জন্ম দেয়ার কার্যক্রম মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগে সফল হন তাহলে গরু উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানো যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।